তিনবেলা ক্ষুধার অন্নের যোগানই যেসব শিশুর জন্য বিলাসিতা

0
121

দুর্ভাগ্যে জন্ম যাদের, যেসব শিশুর মা-বাবা নেই বা মা-বাবা থাকলেও আশ্রয় নেই, তাদের কথা একটু ভাবুন তো। কোথায় তাদের খুশির শৈশব, কোথায় বা তাদের শৈশবের আশ্রয়। আর যাদের আশ্রয় নেই খুশির শৈশব কি খুব সহজে তাদের পাওয়া হয়? এই পর্বে আমরা তুলে ধরতে চাই সেইসব শিশুদের কথা যারা আশ্রয় থেকে বঞ্চিত, যারা আনন্দের শৈশব থেকে বঞ্চিত। কক্সবাজারের সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের নিয়ে কাজ করে এমন একটি সংগঠনের নাম ‘নতুন জীবন’। ২০১৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের কল্যানে সংগঠিত ‘নতুন জীবন’ সংগঠনে বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী তরুন তরুনীর সংখ্যা ৩০ জন। আর তালিকাভুক্ত সুবিধাবঞ্চিত শিশুর সংখ্যা ১৮০ জন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও এঞঠ এর জেলা প্রতিনিধি উমর ফারুক হিরো জানান, ‘শহরে তিন শ্রেণীর সুবিধা বঞ্চিত শিশু রয়েছে। প্রথম শ্রেণীর শিশুরা সম্পূর্ণ ভাসমান। তাদের থাকা-খাওয়ার কোন জায়গা নেই। বিভিন্ন মার্কেটের বারান্দা অথবা ফুটপাতে রাত্রি যাপন করে। এই শিশুরা পর্যটক সহ স্থানীয়দের কাছে ভিক্ষাবৃত্তি ও ভাঙ্গাড়ী কুড়িয়ে জীবন যাপন করে। তাদের বেশিরভাগ’ই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। এই ধরণের শিশুদের সংখ্যা দুইশতাধিক।
দ্বিতীয় শ্রেণীর শিশুরা ভাঙ্গারী কুড়ানোর পাশাপাশি পর্যটন মৌসুমে সমুদ্র সৈকতে ভিক্ষা, পর্যটককে গান শুনানো, বডি ম্যাসেইজ করা, চা-কপি-পান-সিগারেট সহ নানা কিটকট বিক্রি করে জীবন চালায়। তাদের বেশিরভাগের বাড়ি শহরের সমিতি পাড়া ও কুতুবদিয়া পাড়ায়। তাদের অনেকে ভাঙ্গারী দোকানে রাত্রীযাপন করে। তাদের বেশিরভাগের মা-বাবা সাথে যোগাযোগ থাকলেও আবার অনেকের নাই। এই ধরণের শিশুর সংখ্যা চাঁরশতাধিক।
তৃতীয় শ্রেণীর সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের বেশিরভাগের’ই বাবা-মা রয়েছে। আবার অনেকের বাবা আছে মা নাই কিংবা মা আছে বাবা নেই। দারিদ্রতার কারণে এই শিশুরা শহরের নাজিরারটেক শুটকি পল্লী, খুরুশকুল নাপ্পী মহাল, ভাঙ্গারীর দোকান, ফিসারী ঘাট, ইটভাটা, ওয়ার্কশস, চায়ের দোকান সহ বিভিন্ন জায়গায় ঝুঁকিপূর্ণ শিশুশ্রমের সাথে জড়িত। এই শিশুর সংখ্যা আনুমানিক ৫ হাজার অথবা তারও বেশি।
ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা এই শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল না থাকায় শীত-গৃষ্ম-বর্ষায় তাদের খুব কষ্টে দিন কাটে। খাবারের সুনিদৃষ্ট ব্যবস্থা না থাকায় ঠিকমত খেতে পারেনা। করোনা সহ দূযোর্গকালীন সময়ে তাদের খুবই মানবেতর দিনকাটে। এই শিশুরা লেখাপড়া-চিকিৎসা-বিনোদন সহ নানা সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এছাড়া সীমান্তবর্তী এই জেলায় অপরাধীরা কোমলমতি এসব শিশুদের দিয়ে ইয়াবা সহ বিভিন্ন মাদক পাচার, পতিতাবৃত্তি ও ছিনতাই সহ নানা অপরাধমূলক কর্মকান্ড করায়। যার ফলে শিশুগুলো আরো বেশি ঝুঁকির মুখে পড়ে।
এই তিন শ্রেণীর শিশুদের মধ্যে প্রথম দুই শ্রেণীর শিশুদের কল্যাণে কাজ করে সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের কল্যাণমুলক সংগঠন ‘নতুন জীবন’।’
এই শিশুদের জীবনমান উন্নয়নে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরেন তিনি- ‘এই শিশুদের বাসস্থান, খাবার ও কাপড়ের ব্যবস্থা করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পর্যটন এলাকা হিসেবে কক্সবাজারে অনেক বিলাসবহুল হোটেল রয়েছে, সেইসাথে অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিশুদের নিয়ে কাজ করে। সকলের সদিচ্ছার অভাব না থাকলে কক্সবাজারে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আশ্রয় ও খাবারের ব্যবস্থা করা কঠিন কিছু নয়। অন্তঃত যতগুলো হোটেল রয়েছে কক্সবাজারে, সবগুলো হোটেল যদি তাদের বেঁচে যাওয়া একদিনের খাবার ও দান করে দেয় তবে তা এই শিশুদের এক সপ্তাহের খাবারের সমান হবে। শিশু কল্যান বা সমাজ কল্যান অধিদপ্তর যদি এই শিশুদের জন্য একটা আলাদা জমি দিয়ে একটা আশ্রয়কেন্দ্র তৈরী করে দেয় তবে এদের বাসস্থানের অভাবও ঘুচবে।’

Spread the love

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here