কক্সবাজার পৌরসভার স্বাস্থ্য বিভাগের টিকাদানকারী সুপারভাইজার শেলী সুলতানা জানান, হাম অত্যন্ত ছোঁয়াচে একটি রোগ এবং এ রোগের জটিলতায় শিশুমৃত্যুর হার তুলনামূলকভাবে বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন জেলায় হামের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুদের সুরক্ষায় সরকারের উদ্যোগে এই টিকাদান কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাম-রুবেলা টিকা অত্যন্ত নিরাপদ ও কার্যকর। দেশে ছয় মাস থেকে পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশুরা এই রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে। তাই সারা দেশে পর্যায়ক্রমে এই বয়সসীমার সকল শিশুকে টিকা প্রদান করা হবে। পূর্বে হামের টিকা নেওয়া থাকলেও এই ক্যাম্পেইনে শিশুদের অতিরিক্ত এক ডোজ টিকা গ্রহণ করতে হবে, যা রোগ প্রতিরোধে আরও কার্যকর সুরক্ষা দেবে। তবে পূর্ববর্তী ডোজ নেওয়ার কমপক্ষে ২৮ দিন পর এই টিকা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে, জ্বর, শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছে—এমন শিশুদের এই টিকা দেওয়া যাবে না। এছাড়া পূর্বে টিকা নেওয়ার পর কারও গুরুতর অ্যালার্জি বা বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিলে তাদেরও এই টিকা দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে। অসুস্থ শিশুদের সম্পূর্ণ সুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ০.৫ মিলিলিটার টিকা উরুর মধ্যভাগের বাইরের অংশে চামড়ার নিচে প্রদান করা হবে। আর দুই বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে ডান বাহুর উপরিভাগের বাইরের অংশে চামড়ার নিচে এই টিকা দেওয়া হবে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকাই হাম-রুবেলা প্রতিরোধের সবচেয়ে কার্যকর উপায়। টিকা গ্রহণ করলে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় এবং আক্রান্ত হলেও জটিলতা কম হয়। পাশাপাশি শিশুর হাম-রুবেলা টিকার সঙ্গে অন্যান্য ইপিআই টিকাগুলোও নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্টরা অভিভাবকদের নির্ধারিত কেন্দ্রে শিশুদের নিয়ে গিয়ে সময়মতো টিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।